Skip to main content

সোনা কেনা মানেই বড় অঙ্কের একটি টাকা খরচ করা। সামান্য অসচেতনতার কারণে এই বিশাল বিনিয়োগ মুহূর্তে লস প্রজেক্টে পরিণত হতে পারে। দোকানদারের মিষ্টি কথায় ভুলে অনেকেই গহনা কিনে পরে ঠকে যান। আপনি যদি প্রথমবার সোনা কিনতে যান অথবা সোনা কেনায় খুব একটা পারদর্শী না হয়ে থাকেন, তবে সোনা কেনার আগে এই ১০টি বিষয় আপনার অবশ্যই জানা উচিত।

সোনা কেনার আগে অবশ্য পালনীয় ১০টি রুলস

১. আজকের সঠিক বাজারদর জেনে নিন

দোকানে যাওয়ার আগে অবশ্যই ইন্টারনেটে আজকের বাজারদর চেক করে নিন। বাজুস (BAJUS) কর্তৃক নির্ধারিত লেটেস্ট রেট জানতে আমাদের ২২ ক্যারেট গোল্ড প্রাইস পেজ ভিজিট করুন। দোকানদার যেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি না রাখতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

২. ক্যারেট বা বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন

গহনা তৈরির জন্য ২২ ক্যারেট সোনা (91.6% বিশুদ্ধ) সবচেয়ে ভালো। ২১ বা ১৮ ক্যারেট সোনার দাম তুলনামূলক কম হয়। আপনি যে ক্যারেটের দাম দিচ্ছেন, গহনাটি ঠিক সেই ক্যারেটের কিনা তা রসিদে লিখিয়ে নিন।

৩. হলমার্ক চিহ্ন চেক করুন

গহনার ভেতরের অংশে ছোট করে একটি সিল বা খোদাই করা লেখা থাকে, যাকে হলমার্ক বলে। এটি সোনার আসল হওয়ার গ্যারান্টি। ২২ ক্যারেটের গহনায় "22K" বা "916" লেখা থাকে। হলমার্ক ছাড়া গহনা কখনোই কিনবেন না।

৪. মেকিং চার্জ (মজুরি) নিয়ে দরকষাকষি করুন

সোনার দাম নির্দিষ্ট থাকলেও মেকিং চার্জ (Making Charge) নির্দিষ্ট নয়। এটি গহনার ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে প্রতি গ্রামে ৳৩০০ থেকে ৳২,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই জায়গাটিতেই দরকষাকষির (Bargaining) সবচেয়ে বড় সুযোগ থাকে। কয়েকটি দোকান ঘুরে মজুরি যাচাই করে নিন।

৫. পাথরের ওজনের হিসাব আলাদা করুন

সবচেয়ে বড় প্রতারণাটি এখানেই হয়! অনেকেই সোনার গহনায় পাথর বসিয়ে নেন। মনে রাখবেন, পাথর কখনোই সোনার দামে বিক্রি হতে পারে না! গহনা মাপার সময় দোকানদারকে বলুন পাথরের ওজন বাদ দিয়ে শুধু সোনার ওজনের দাম ধরতে।

৬. মেশিনে ওজন করা নিজ চোখে দেখুন

দোকানদার যখন ডিজিটাল স্কেলে গহনার ওজন করবে, তখন নিজে তাকিয়ে রিডিং চেক করুন। আমাদের অ্যাডভান্সড গোল্ড ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে আপনার মোবাইলেই সাথে সাথে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।

৭. বাইব্যাক (Buy-back) পলিসি জেনে নিন

ভবিষ্যতে গহনাটি বিক্রি করতে বা পরিবর্তন (Exchange) করতে চাইলে দোকান কত শতাংশ টাকা কেটে রাখবে তা আগে থেকেই জেনে নিন। সাধারণত এক্সচেঞ্জে ১০% এবং ক্যাশ রিটার্নে ২০% কাটা হয়।

৮. ভ্যাট (VAT) এবং রসিদ (Invoice)

বাংলাদেশে সোনার গহনা কিনলে ৫% সরকারি ভ্যাট দিতে হয়। অনেকেই ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার জন্য কাঁচা মেমো বা সাদাকাগজে রসিদ নেন। এটি মারাত্মক ভুল! সবসময় কম্পিউটারে প্রিন্ট করা অরিজিনাল ভ্যাট চালান সংগ্রহ করুন, অন্যথায় গহনা বিক্রির সময় বিপদে পড়বেন।

৯. পুরোনো সোনা বিক্রির শর্ত

আপনি যদি আপনার পুরোনো সোনা দিয়ে নতুন গহনা বানাতে চান, তবে দোকানদার আপনার পুরোনো সোনা কত মূল্যে কিনবে তা পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।

১০. বিশ্বস্ত এবং পরিচিত দোকান বেছে নিন

রাস্তার পাশের ছোটখাটো দোকান থেকে সস্তায় সোনা কেনার লোভ পরিহার করুন। নামকরা এবং ব্র্যান্ডের জুয়েলারি শপ থেকে সোনা কিনলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

শেষ কথা

সোনা কেনার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। উপরের পয়েন্টগুলো আপনার ব্রেনে গেঁথে নিন। সঠিক জ্ঞানই পারে আপনার কষ্টের টাকাকে সুরক্ষিত রাখতে!

বাংলাদেশে সোনা কেনার সাধারণ পরামর্শ

বাংলাদেশে সোনা কেনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখুন: (১) সবসময় BAJUS রেটের সাথে তুলনা করুন — BDPriceLive-এ সর্বশেষ দাম দেখুন। (২) হলমার্ক যাচাই করুন — "916" = ২২K, "750" = ১৮K। (৩) মেকিং চার্জ আলোচনা করুন — বিশেষ করে জটিল ডিজাইনে। (৪) ওজন নিজে যাচাই করুন — দোকানের ওজন মেশিনে ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট থাকা উচিত। (৫) রসিদে সোনার ওজন, ক্যারেট, দাম ও মেকিং চার্জ আলাদা উল্লেখ থাকা উচিত।