অনেকেই জানতে চান ২০১২ সালে স্বর্ণের ভরি কত ছিল। শুধু অতীতের দাম নয়, সময়ের সাথে সোনার দাম কীভাবে বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে — সেই পূর্ণ চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশে সোনার দামের বার্ষিক ইতিহাস (২২ ক্যারেট, প্রতি ভরি)
| সাল | আনুমানিক দাম (টাকায়) | মূল কারণ |
|---|---|---|
| ২০১২ | ৫০,০০০ - ৫৫,০০০ | আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ চাহিদা |
| ২০১৪ | ৪৫,০০০ - ৫০,০০০ | ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনার দাম কমেছিল |
| ২০১৬ | ৪৮,০০০ - ৫৩,০০০ | মাঝারি স্থিতিশীলতা |
| ২০১৮ | ৫৮,০০০ - ৬৫,০০০ | টাকার অবমূল্যায়ন |
| ২০২০ | ৮৫,০০০ - ৯৮,০০০ | কোভিড-১৯ আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা সোনায় ছুটেছিলেন |
| ২০২২ | ১,০৫,০০০ - ১,১৫,০০০ | ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি |
| ২০২৪ | ১,৩০,০০০ - ১,৪৫,০০০ | ফেড রেট কাটা, ডলারের দুর্বলতা |
| ২০২৬ | ১,৫০,০০০ - ১,৬৫,০০০ | চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা |
← → স্ক্রল করে সম্পূর্ণ টেবিল দেখুনScroll sideways to see the full table
কত বছরে সোনার দাম দ্বিগুণ হয়েছে?
- ২০১২ → ২০২০: দাম প্রায় ৮৫% বৃদ্ধি (৮ বছরে)
- ২০২০ → ২০২৬: দাম প্রায় ৭৫% বৃদ্ধি (৬ বছরে)
- মোট ২০১২ → ২০২৬: দাম প্রায় ৩ গুণ হয়েছে!
তুলনামূলকভাবে বলতে গেলে, যদি কেউ ২০১২ সালে ১ লাখ টাকার সোনা কিনতেন, আজ সেটি প্রায় ৩ লাখ টাকার হতো।
সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণগুলো
- বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি: বিশ্বজুড়ে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে, তাই স্বর্ণের মূল্য বাড়ছে।
- ডলারের অবমূল্যায়ন: ডলার দুর্বল হলে সোনার দাম আন্তর্জাতিকভাবে বাড়ে।
- ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: যুদ্ধ, সংকট = বিনিয়োগকারীরা সোনায় আশ্রয় নেন।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়: চীন, ভারত, রাশিয়াসহ অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনার মজুদ বাড়াচ্ছে।
- বাংলাদেশে টাকার অবমূল্যায়ন: ডলার-টাকার রেট বৃদ্ধিতে আমদানিকৃত সোনার স্থানীয় দাম বাড়ে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
উত্তর: ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সোনার দাম আন্তর্জাতিকভাবে বাড়তে শুরু করে। সেসময় বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি ভরি প্রায় ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকায় বিক্রি হতো।
প্রশ্ন: আগামী ৫ বছরে সোনার দাম কি আরও বাড়বে?উত্তর: অধিকাংশ আর্থিক বিশ্লেষক মনে করেন দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম বাড়তেই থাকবে। তবে স্বল্পমেয়াদে উভয় দিকেই যেতে পারে। কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।