Skip to main content

বয়স্কদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়, "আমাদের আমলে সোনার ভরি ছিল মাত্র ৩০০ টাকা!"। যুগের সাথে সাথে সোনার দাম কীভাবে রকেটের গতিতে বেড়েছে, তা শুনলে অবাক হতে হয়। আজকে আমরা বাংলাদেশে সোনার দামের ইতিহাস এবং গত ১০-১৫ বছরে এর দামের অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করব।

সোনার দামের ঐতিহাসিক চিত্র

সোনা হলো এমন একটি সম্পদ, যার দাম সাময়িকভাবে কমলেও দীর্ঘমেয়াদে সব সময় বাড়ে। চলুন একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান দেখি:

  • ২০০১ সাল: ১ ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা!
  • ২০১২ সাল: অনেকেই জানতে চান "gold price in 2012 in bangladesh" কত ছিল। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে সোনার দাম লাফিয়ে বেড়ে ভরিপ্রতি প্রায় ৫৫,০০০-৬০,০০০ টাকায় পৌঁছেছিল।
  • ২০২০ সাল (করোনা মহামারী): মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতি থমকে গেলে বিনিয়োগকারীরা সোনায় ঝুঁকে পড়েন। তখন সোনার দাম ভরিপ্রতি ৭০-৭৫ হাজার টাকায় উঠে যায়।
  • বর্তমান সময়: ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে বর্তমানে সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লক্ষ ২০ থেকে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে!

কেন এত দাম বাড়ে?

সোনার কোনো নির্দিষ্ট খনি থেকে অফুরন্ত সরবরাহ নেই। এটি একটি সীমিত সম্পদ (Limited Resource)। মানুষের জনসংখ্যা এবং চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এর দুষ্প্রাপ্যতা বাড়ছে। তাছাড়া, মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং ডলারের মান দুর্বল হওয়ার কারণে কাগজের টাকার মান কমছে, কিন্তু সোনার মান ঠিকই থাকছে।

ভবিষ্যতের বাজার

অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার দাম আগামী ৫-১০ বছরে আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই গহনা বা ইনভেস্টমেন্টের জন্য সোনা কেনার প্ল্যান থাকলে, দাম কমার অপেক্ষায় না থেকে বর্তমান বাজারদরে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। লেটেস্ট বাজারদর জানতে আমাদের ২২ ক্যারেট সোনার রেট পেজটি ভিজিট করুন।

বাংলাদেশে সোনা কেনার সাধারণ পরামর্শ

বাংলাদেশে সোনা কেনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখুন: (১) সবসময় BAJUS রেটের সাথে তুলনা করুন — BDPriceLive-এ সর্বশেষ দাম দেখুন। (২) হলমার্ক যাচাই করুন — "916" = ২২K, "750" = ১৮K। (৩) মেকিং চার্জ আলোচনা করুন — বিশেষ করে জটিল ডিজাইনে। (৪) ওজন নিজে যাচাই করুন — দোকানের ওজন মেশিনে ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট থাকা উচিত। (৫) রসিদে সোনার ওজন, ক্যারেট, দাম ও মেকিং চার্জ আলাদা উল্লেখ থাকা উচিত।