সোনা কেনার পর বা পুরোনো গহনা বিক্রির সময় আমাদের মনে একটি সন্দেহ কাজ করেই, "গহনাটি আসলেই খাঁটি তো?" বিশেষ করে মেমো বা রসিদ হারিয়ে গেলে এই সন্দেহ আরও প্রবল হয়। আপনি যদি গহনার সঠিক ক্যারেট না জানেন, তবে বিক্রির সময় দোকানদাররা আপনাকে সহজেই ঠকাতে পারে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানাব, বাংলাদেশে সোনার বিশুদ্ধতা বা ক্যারেট যাচাই করার আধুনিক এবং সনাতন পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে।
১. আধুনিক পদ্ধতি: স্পেকট্রোমিটার বা এসিড টেস্ট মেশিন
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব বড় এবং নামকরা জুয়েলারি দোকানে X-ray Fluorescence (XRF) Spectrometer নামের অত্যাধুনিক মেশিন রয়েছে। এটি সোনার বিশুদ্ধতা মাপার সবচেয়ে ১০০% নির্ভুল এবং নিরাপদ পদ্ধতি।
- কীভাবে কাজ করে? এই মেশিনের ভেতরে গহনাটি রাখলে এর ওপর এক্স-রে রশ্মি ফেলা হয়। মেশিনটি সাথে সাথে একটি স্ক্রিনে দেখিয়ে দেয় গহনাটিতে কত শতাংশ সোনা, কত শতাংশ তামা এবং কত শতাংশ দস্তা রয়েছে।
- সুবিধা: এতে গহনার কোনো ক্ষতি হয় না (Non-destructive) এবং ২ মিনিটের মধ্যেই রেজাল্ট পাওয়া যায়। মেশিনের প্রিন্ট করা রিপোর্ট অনুযায়ী আপনি আমাদের গোল্ড ক্যালকুলেটরে লেটেস্ট ২২ ক্যারেটের দাম মিলিয়ে দেখতে পারেন।
২. সনাতন পদ্ধতি: এসিড টেস্ট (Acid Test/Touchstone Test)
মেশিন আসার আগে যুগ যুগ ধরে এই পদ্ধতিতেই সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই করা হতো এবং এখনও অনেক ছোট দোকানে এটি ব্যবহার করা হয়।
- কীভাবে কাজ করে? একটি কালো কষ্টিপাথরের (Touchstone) ওপর গহনাটি ঘষে সোনার দাগ ফেলা হয়। এরপর সেই দাগের ওপর নাইট্রিক এসিড (Nitric Acid) ফেলা হয়। খাঁটি সোনা এসিডে গলে না, কিন্তু সোনার সাথে মেশানো খাদ বা তামা গলে যায়। দাগের উজ্জ্বলতা দেখে অভিজ্ঞ কারিগররা ক্যারেট বলে দিতে পারেন।
- অসুবিধা: এটি ১০০% নির্ভুল নয় এবং এই পদ্ধতিতে গহনার সামান্য ক্ষতি (ক্ষয়) হয়।
| পদ্ধতি | নির্ভুলতা | গহনার ক্ষতি | কোথায় পাবেন? |
|---|---|---|---|
| স্পেকট্রোমিটার মেশিন | ১০০% নির্ভুল | কোনো ক্ষতি হয় না | বড় জুয়েলারি শোরুম/ল্যাব |
| এসিড ও কষ্টিপাথর | ৮০-৯০% নির্ভুল (কারিগর নির্ভর) | সামান্য ক্ষতি হয় (ঘষার কারণে) | ছোট এবং পাড়ার দোকানে |
← → স্ক্রল করে সম্পূর্ণ টেবিল দেখুনScroll sideways to see the full table
বাসায় বসে কি সোনা যাচাই করা যায়?
ইন্টারনেটে অনেকেই চুম্বক (Magnet) বা পানির সাহায্যে সোনা যাচাই করার কথা বলেন। মনে রাখবেন, সোনা চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না, কিন্তু গহনার ভেতরে যদি লোহার স্প্রিং বা তার থাকে, তবে তা আকৃষ্ট হতে পারে। তাই বাসায় বসে কোনো অপেশাদার পদ্ধতিতে সোনা যাচাই না করে সরাসরি মেশিনে চেক করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।