সকালে পত্রিকা খুলে দেখলেন সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার টাকা কমেছে, আবার বিকেলে দেখলেন উল্টো ১ হাজার টাকা বেড়ে গেছে! সোনার দামের এই অদ্ভুত ওঠানামা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। অনেকেই জানতে চান, সোনার দাম কমার বা বাড়ার পেছনে আসলে কারণগুলো কী? চলুন অর্থনীতির এই জটিল সমীকরণটি খুব সহজ ভাষায় বুঝে নিই।
১. ফেডারেল রিজার্ভের (US Fed) সুদের হার
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের ওপর। যখন তারা ব্যাংকের সুদের হার (Interest Rate) কমিয়ে দেয়, তখন মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে সোনায় বিনিয়োগ করতে শুরু করে। চাহিদা বাড়ার কারণে সোনার দামও হু হু করে বাড়তে থাকে। আবার সুদের হার বাড়লে সোনার দাম কমতে শুরু করে।
২. ডলারের রেট (Dollar Index)
সোনা এবং ডলারের মধ্যে সম্পর্কটি হলো ব্যস্তানুপাতিক। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন ডলারের মান দুর্বল হয়ে যায়, তখন অন্যান্য দেশের মুদ্রায় সোনা সস্তা হয়ে যায়, ফলে সোনার চাহিদা ও দাম বাড়ে। আবার বাংলাদেশে যেহেতু ডলার দিয়ে সোনা আমদানি করতে হয়, তাই দেশে ডলারের রেট বাড়লেও আমাদের দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়ে যায়।
৩. যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সংকট (Geopolitical Tensions)
যখন পৃথিবীতে কোনো বড় যুদ্ধ (যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্য সংকট), মহামারী (যেমন করোনা) বা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়, তখন শেয়ার বাজার ধসে পড়ে। তখন বড় বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা শেয়ার বাজার থেকে তুলে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ করে (Safe-haven Asset)। এর ফলে সোনার দাম রকেটের গতিতে বাড়তে থাকে।
৪. মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)
যখন বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে এবং টাকার মান কমে যায়, তখন মানুষ তাদের জমানো টাকার মান ধরে রাখতে সোনা কেনে। ফলে দাম বাড়ে।
বাংলাদেশে এর প্রভাব
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (BAJUS) মূলত এই আন্তর্জাতিক বাজারের রেট এবং দেশের ডলারের রেট সমন্বয় করেই আমাদের দেশের ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করে। সোনার লেটেস্ট রেট জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।