Skip to main content

সোনা এবং রূপার মতো জ্বালানি তেলের দামও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম— সবই সরাসরি তেলের দামের সাথে যুক্ত। অনেকেই ইন্টারনেটে বা খবরে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম সম্পর্কে জানতে চান। আজকের আর্টিকেলে আমরা পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল এবং কেরোসিনের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং বর্তমান বাজারদর নিয়ে আলোচনা করব।

আজকের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে (Automatic Pricing Formula) প্রতি মাসে তেলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

বর্তমান বাজারদর (আনুমানিক):

  • অকটেন (Octane): ৳১২৬ - ৳১৩০ প্রতি লিটার (পরিবর্তনশীল)
  • পেট্রোল (Petrol): ৳১২২ - ৳১২৫ প্রতি লিটার (পরিবর্তনশীল)
  • ডিজেল (Diesel): ৳১০৬ - ৳১১০ প্রতি লিটার (পরিবর্তনশীল)
  • কেরোসিন (Kerosene): ৳১০৬ - ৳১১০ প্রতি লিটার (পরিবর্তনশীল)

তেলের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়?

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মাপা হয় ব্যারেল (Barrel) হিসেবে (১ ব্যারেল = প্রায় ১৫৯ লিটার)। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল (Crude Oil) বা অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে বা কমলে, তার ওপর ভিত্তি করে বিপিসি দেশে তেলের দাম সমন্বয় করে। এর সাথে যুক্ত হয় পরিবহন খরচ, পরিশোধন খরচ (Refining Cost) এবং সরকারি ট্যাক্স।

জ্বালানির ধরন মূল ব্যবহারকারী দামের প্রভাব
ডিজেল বাস, ট্রাক, কৃষি পাম্প, লঞ্চ ডিজেলের দাম বাড়লে বাসভাড়া ও জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।
অকটেন/পেট্রোল প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত যাতায়াত খরচ বাড়ে।

← → স্ক্রল করে সম্পূর্ণ টেবিল দেখুনScroll sideways to see the full table

অটোমেটিক প্রাইসিং ফর্মুলা

সম্প্রতি সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে প্রতি মাসের শুরুতে তেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমলে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুবিধা পাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. পেট্রোল এবং অকটেনের মধ্যে পার্থক্য কী?
অকটেনের গুণগত মান পেট্রোলের চেয়ে ভালো। উন্নত ইঞ্জিন এবং আধুনিক গাড়ির জন্য অকটেন ব্যবহার করা হয়, যা ইঞ্জিনকে সুরক্ষিত রাখে।

২. বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে দাম ততটা কমে না কেন?
তেল আমদানিতে ডলার ব্যবহার করতে হয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও ডলারের দাম বেশি থাকায় আমদানি খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়, তাই দাম খুব বেশি কমানো সম্ভব হয় না।

জ্বালানি দাম বোঝার উপায়

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম BPC (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) এবং সরকার নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক ক্রুড অয়েলের দামের সাথে সরাসরি সম্পর্ক থাকলেও দেশীয় দাম পরিবর্তনে সময় লাগে। ডিজেলের দাম সরাসরি পরিবহন ও পণ্যমূল্যে প্রভাব ফেলে।