Skip to main content

সোনা কেনা মানেই বড় অঙ্কের একটি টাকা খরচ করা। সামান্য অসচেতনতার কারণে এই বিশাল বিনিয়োগ মুহূর্তে লস প্রজেক্টে পরিণত হতে পারে। দোকানদারের মিষ্টি কথায় ভুলে অনেকেই গহনা কিনে পরে ঠকে যান। আপনি যদি প্রথমবার সোনা কিনতে যান অথবা সোনা কেনায় খুব একটা পারদর্শী না হয়ে থাকেন, তবে দোকানদারকে এই ৫টি প্রশ্ন অবশ্যই করবেন।

১. "এই গহনাটি কত ক্যারেটের এবং এতে কি হলমার্ক আছে?"

সবার আগে নিশ্চিত করুন গহনাটি ২২ ক্যারেটের (৯১.৬%) কিনা এবং গহনার গায়ে "22K" বা "916" হলমার্ক লেজার দিয়ে খোদাই করা আছে কিনা। দোকানদারকে বলুন ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে আপনাকে হলমার্কটি দেখাতে। হলমার্ক ছাড়া গহনা কখনোই কিনবেন না।

২. "আজকের বাজুসের রেট কত?"

দোকানদার যেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি না রাখতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। আমাদের ২২ ক্যারেট গোল্ড প্রাইস পেজ থেকে বাজুসের রেট জেনে নিয়ে তবেই দোকানে যাবেন।

৩. "মেকিং চার্জ কত এবং কোনো ছাড় আছে কিনা?"

সোনার দাম ফিক্সড হলেও মেকিং চার্জ (Making Charge) ফিক্সড নয়। এটি নিয়ে দরকষাকষি (Bargain) করার সুযোগ আছে। দোকানদারকে সরাসরি বলুন, "মেকিং চার্জ অনেক বেশি মনে হচ্ছে, কিছু কমানো যাবে কি?" আমাদের গোল্ড ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে মজুরি বদল করে মোট বিল দেখে নিন।

৪. "পাথরের ওজনের হিসাব কীভাবে করেছেন?"

গহনায় যদি পাথর থাকে, তবে পরিষ্কারভাবে জিজ্ঞাসা করুন, "পাথরের ওজন কি সোনার দামের সাথে যুক্ত করেছেন নাকি আলাদা করেছেন?" পাথর কখনোই সোনার দামে বিক্রি হতে পারে না।

৫. "আপনাদের বাইব্যাক (Buy-back) এবং এক্সচেঞ্জ পলিসি কী?"

ভবিষ্যতে বিক্রি করার সময় দোকানদার কত পার্সেন্ট টাকা কেটে রাখবে তা কেনার আগেই রসিদে লিখিতভাবে নিয়ে নিন। সাধারণত এক্সচেঞ্জে ১০% এবং ক্যাশ রিটার্নে ২০% কাটা হয়।

শেষ কথা

সোনা কেনার সময় ভ্যাটের রসিদ নিতে ভুলবেন না। ৫% ভ্যাট বাঁচাতে গিয়ে সাদা মেমো নিলে পরে বিক্রির সময় আপনি বিপদে পড়বেন।

বাংলাদেশে সোনা কেনার সাধারণ পরামর্শ

বাংলাদেশে সোনা কেনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখুন: (১) সবসময় BAJUS রেটের সাথে তুলনা করুন — BDPriceLive-এ সর্বশেষ দাম দেখুন। (২) হলমার্ক যাচাই করুন — "916" = ২২K, "750" = ১৮K। (৩) মেকিং চার্জ আলোচনা করুন — বিশেষ করে জটিল ডিজাইনে। (৪) ওজন নিজে যাচাই করুন — দোকানের ওজন মেশিনে ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট থাকা উচিত। (৫) রসিদে সোনার ওজন, ক্যারেট, দাম ও মেকিং চার্জ আলাদা উল্লেখ থাকা উচিত।