Skip to main content

জুয়েলারি দোকানে গিয়ে অনেকেই একটি শব্দ শোনেন, "এটি কেডিএম (KDM) সোনা"। কিন্তু এই KDM আসলে কী এবং হলমার্ক করা সোনার সাথে এর মূল পার্থক্য কোথায়, তা অনেকেই জানেন না। আজকে আমরা KDM সোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

KDM সোনা কী?

পুরোনো দিনে গহনার বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগানোর জন্য সোনার সাথে তামা বা পিতল গলিয়ে ব্যবহার করা হতো (যাকে ঝালাই বলা হয়)। এর ফলে গহনার খাঁটিত্ব (Purity) নষ্ট হয়ে যেত এবং গহনা বিক্রি করার সময় দাম অনেক কমে যেত।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য ক্যাডমিয়াম (Cadmium) নামক একটি ধাতু ব্যবহার শুরু হয়। সোনার সাথে ক্যাডমিয়াম মিশিয়ে খুব নিখুঁতভাবে গহনা জোড়া লাগানো যেত এবং এতে সোনার ক্যারেট খুব একটা পরিবর্তন হতো না। এই ক্যাডমিয়াম যুক্ত সোনাকেই সংক্ষেপে KDM Gold বলা হতো।

KDM সোনা কেন এখন নিষিদ্ধ?

ক্যাডমিয়াম গলে যাওয়ার সময় অত্যন্ত বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে, যা স্বর্ণকার বা কারিগরদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কারণে আন্তর্জাতিকভাবে এবং বাংলাদেশেও KDM সোনার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে এর বদলে জিঙ্ক (Zinc) বা তামার আধুনিক সংকর ধাতু ব্যবহার করা হয়।

KDM বনাম হলমার্ক (Hallmark)

KDM ছিল মূলত গহনা জোড়া লাগানোর একটি পদ্ধতি। অন্যদিকে হলমার্ক (Hallmark) হলো সোনার বিশুদ্ধতা প্রমাণের সরকারি স্বীকৃতি। বর্তমানে KDM সোনার বদলে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি করা হয়। অর্থাৎ আপনি এখন যা কিনবেন, তা ৯১.৬% বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে হলমার্ক করা থাকবে।

পুরোনো KDM সোনা বিক্রি

আপনার কাছে যদি পুরোনো KDM সোনা থাকে, তবে আপনি সেটি যেকোনো জুয়েলারি শপে বিক্রি করতে পারবেন। দোকানদার সোনা গলিয়ে এর সঠিক ক্যারেট (সাধারণত ২০ বা ২১ ক্যারেট বের হয়) মেপে আপনাকে দাম দেবে। হিসাব মেলাতে আমাদের স্বর্ণের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

বাংলাদেশে সোনা কেনার সাধারণ পরামর্শ

বাংলাদেশে সোনা কেনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখুন: (১) সবসময় BAJUS রেটের সাথে তুলনা করুন — BDPriceLive-এ সর্বশেষ দাম দেখুন। (২) হলমার্ক যাচাই করুন — "916" = ২২K, "750" = ১৮K। (৩) মেকিং চার্জ আলোচনা করুন — বিশেষ করে জটিল ডিজাইনে। (৪) ওজন নিজে যাচাই করুন — দোকানের ওজন মেশিনে ক্যালিব্রেশন সার্টিফিকেট থাকা উচিত। (৫) রসিদে সোনার ওজন, ক্যারেট, দাম ও মেকিং চার্জ আলাদা উল্লেখ থাকা উচিত।