হীরা কেনার সময় সবচেয়ে বড় যে ভয় কাজ করে তা হলো, "হীরাটি আসল তো?" সাধারণ মানুষের পক্ষে খালি চোখে আসল এবং নকল হীরার পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই তৈরি হয়েছে ডায়মন্ড টেস্টার মেশিন (Diamond Tester)। অনেকেই গুগলে সার্চ করেন ডায়মন্ড টেস্টারের দাম এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানার জন্য। আজকের ব্লগে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানব।
ডায়মন্ড টেস্টার কীভাবে কাজ করে?
বেশিরভাগ ডায়মন্ড টেস্টার মূলত তাপ পরিবাহিতা (Thermal Conductivity) মেপে কাজ করে। আসল হীরা তাপের অত্যন্ত ভালো পরিবাহী। যখন টেস্টারের সূঁচালো মাথাটি হীরার ওপর রাখা হয়, তখন এটি মাপতে পারে পাথরটি কত দ্রুত তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আসল হীরা হলে মেশিনে বিপ (Beep) শব্দ হয় এবং সবুজ লাইট জ্বলে ওঠে।
ডায়মন্ড টেস্টারের দাম কত?
বাংলাদেশে বিভিন্ন মডেলের ডায়মন্ড টেস্টার পাওয়া যায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেসিক মডেল হলো Diamond Selector II।
- বেসিক মডেল (Thermal Tester): এর দাম সাধারণত ৳১,২০০ থেকে ৳২,৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এগুলো দারাজ (Daraz) বা গুলিস্তানের ইলেকট্রনিক্সের দোকানে সহজেই পাওয়া যায়।
- অ্যাডভান্সড মডেল (Thermal + Electrical Tester): এগুলো মোয়াজানাইট (Moissanite - হীরার মতো দেখতে আরেক ধরনের পাথর) এবং আসল হীরার পার্থক্য ধরতে পারে। এগুলোর দাম ৳৫,০০০ থেকে ৳১৫,০০০ টাকার মতো হতে পারে।
টেস্টার মেশিন কি ১০০% নির্ভুল?
না! বেসিক ডায়মন্ড টেস্টারগুলো আসল হীরা এবং মোয়াজানাইটের (Moissanite) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, কারণ মোয়াজানাইটও তাপ পরিবাহী। তাছাড়া, টেস্টার মেশিন ল্যাব-গ্রোন হীরাকেও 'আসল' হিসেবে সিগন্যাল দেয়।
তাহলে হীরা চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
আপনি যদি হাজার বা লাখ টাকা খরচ করে গহনা বানান, তবে একটি পোর্টেবল মেশিনের ওপর পুরোপুরি ভরসা করা বোকামি। হীরা চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো IGI বা GIA ল্যাবরেটরি সার্টিফিকেট চেক করা। হীরা কেনার আগে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে হীরার লাইভ প্রাইস এবং সোনার ফ্রেমের জন্য ২২ ক্যারেট সোনার দাম চেক করে নিতে পারেন।