অনেকেই শখ করে হীরার আংটি বা নাকফুল কেনেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন সেটি হীরা নয়, জিরকন (Zircon) বা আমেরিকান ডায়মন্ড (AD)। দেখতে হুবহু আসল হীরার মতো চকচকে হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে এই দুটি পাথরের পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব। অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রায়ই জিরকন পাথরকে আসল হীরা বলে চালিয়ে দেয়। কীভাবে জিরকন এবং আসল হীরার পার্থক্য করবেন? আজকের আর্টিকেলে আমরা কয়েকটি সহজ উপায় জানাব।
জিরকন (Zircon / AD) কী?
কিউবিক জিরকোনিয়া (Cubic Zirconia) বা যাকে আমরা আমেরিকান ডায়মন্ড বলি, সেটি কোনো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি পাথর নয়। এটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি এক ধরনের সিন্থেটিক বা কৃত্রিম পাথর। এর দাম খুবই সস্তা।
আসল হীরা (Real Diamond) কী?
আসল হীরা হলো প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত এবং মূল্যবান রত্ন, যা মাটির গভীরে হাজার হাজার বছর ধরে তৈরি হয়। লেটেস্ট বাজারদর জানতে আমাদের হীরার দামের পেজটি চেক করুন।
পার্থক্য বোঝার ৫টি সহজ উপায়
১. নিঃশ্বাসের পরীক্ষা (The Fog Test)
পাথরটির ওপর আপনার মুখের নিঃশ্বাস ফেলুন (যাতে পাথরটি কিছুটা ঘোলাটে হয়ে যায়)। যদি পাথরটি আসল হীরা হয়, তবে ১-২ সেকেন্ডের মধ্যেই ওই ঘোলাটে ভাব বা কুয়াশা দূর হয়ে যাবে। আর যদি সেটি জিরকন হয়, তবে ঘোলাটে ভাবটি দূর হতে বেশ কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে।
২. পেপার বা নিউজপ্রিন্ট টেস্ট (The Read-Through Test)
একটি খবরের কাগজের লেখার ওপর পাথরটি উল্টো করে রাখুন। যদি পাথরের ভেতর দিয়ে তাকালে নিচের লেখাটি পড়া যায় বা কালো অক্ষরের কোনো অংশ দেখা যায়, তবে সেটি জিরকন বা কাঁচ। কারণ আসল হীরার ভেতর দিয়ে আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, নিচের কোনো লেখাই আপনি পড়তে পারবেন না।
৩. পানির পরীক্ষা (The Water Test)
একটি গ্লাসে পানি নিন এবং পাথরটি ছেড়ে দিন। আসল হীরা অনেক বেশি ঘন (High Density) হওয়ায় তা সাথে সাথে গ্লাসের তলায় ডুবে যাবে। কিন্তু যদি পাথরটি ভাসতে থাকে বা ধীরে ধীরে ডোবে, তবে তা নকল বা জিরকন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৪. স্ক্র্যাচ টেস্ট (Scratch Test)
হীরা প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত বস্তু। একমাত্র একটি হীরা দিয়েই আরেকটি হীরাকে কাটা বা দাগ ফেলা সম্ভব। পাথরটি দিয়ে যদি কোনো কাঁচের ওপর আঁচড় কাটেন, তবে কাঁচটি দাগ পড়ে যাবে কিন্তু হীরার কিছুই হবে না। তবে এই পরীক্ষাটি সাবধানে করা উচিত।
৫. IGI বা GIA সার্টিফিকেট (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)
সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ল্যাব সার্টিফিকেট চেক করা। আসল হীরার সাথে অবশ্যই IGI বা GIA এর মতো আন্তর্জাতিক ল্যাবরেটরির সার্টিফিকেট থাকবে এবং হীরার গায়ে লেজার দিয়ে সিরিয়াল নম্বর খোদাই করা থাকবে। জিরকন বা আমেরিকান ডায়মন্ডের এ ধরনের কোনো সার্টিফিকেট থাকে না।
সতর্কতা
সোনার গহনায় পাথর বসানোর সময় খেয়াল রাখবেন। আমাদের গোল্ড ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে শুধু সোনার দামটি আলাদা করে নেবেন। মনে রাখবেন, জিরকন পাথরের কোনো রিসেল ভ্যালু নেই, এটি সোনার দামে বিক্রি হওয়া উচিত নয়।